jitawins.com

বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের জন্য একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম

ব্রিসবেন টেস্টের আগে ট্রাফিক আইন ভাঙলেন বেন স্টোকস ও মার্ক উড!

ব্রিসবেন টেস্টের আগে ট্রাফিক আইন ভাঙলেন বেন স্টোকস ও মার্ক উড!

ব্রিসবেন টেস্ট অ্যাশেজ (Ashes Series) মানেই অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে এক স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই, যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের ঘটনাও সমান গুরুত্ব পায়। চলতি অ্যাশেজ সফরে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি। পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্টে লজ্জাজনক হারের স্বাদ পেতে হয়েছে সফরকারীদের। সেই হারের ক্ষত না শুকাতেই এবার মাঠের বাইরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং তাঁর সতীর্থরা।

পার্থ টেস্টের ব্যর্থতা ভুলে বৃহস্পতিবার ব্রিসবেনে (Brisbane Test) ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নামার কথা ছিল ইংলিশদের। কিন্তু তার আগেই অস্ট্রেলিয়ার কড়া ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করে খবরের শিরোনাম হলেন তিন ইংলিশ তারকা। হেলমেট ছাড়া ই-স্কুটার (E-scooter) চালিয়ে কুইন্সল্যান্ড পুলিশের নজরে পড়েছেন তাঁরা। এই ঘটনা দলের মনোযোগ এবং শৃঙ্খলার ওপর প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে। এই আর্টিকেলে আমরা এই ঘটনার আদ্যোপান্ত, আইনি ধারা, এবং অস্ট্রেলিয়ায় ইংলিশ ক্রিকেটারদের আইন ভাঙার পূর্ব ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ব্রিসবেন টেস্ট রাস্তায় কী ঘটেছিল? ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গত বুধবার ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ব্রিসবেনে পৌঁছায়। পার্থ টেস্ট মাত্র চার দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ইংল্যান্ডের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে খেলা গড়ায়নি শেষ দিন পর্যন্ত। ফলে হাতে বেশ কিছুটা অবসর সময় পেয়ে যান ইংলিশ ক্রিকেটাররা। আর এই অবসর সময়টি উপভোগ করতেই ব্রিসবেনের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন অধিনায়ক বেন স্টোকস, পেসার মার্ক উড এবং উইকেটকিপার ব্যাটার জেমি স্মিথ।

শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন ভাড়ায় চালিত ই-স্কুটার। কিন্তু সমস্যাটি বাঁধে তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে অনীহা নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, তিন ইংলিশ ক্রিকেটার—স্টোকস, উড এবং স্মিথ—ব্রিসবেনের ব্যস্ত রাস্তায় ই-স্কুটার চালাচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, জেমি স্মিথের স্কুটারের সঙ্গেই একটি হেলমেট সংযুক্ত ছিল, তবুও তিনি সেটি পরিধান করেননি। এটি শুধুমাত্র অসচেতনতা নয়, বরং একটি গুরুতর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন।

মার্ক উডের ইনজুরি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ

এই ঘটনার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো পেসার মার্ক উডের শারীরিক অবস্থা। ভাইরাল হওয়া ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, উড তাঁর বাম হাঁটুতে একটি ভারী সাপোর্ট ব্যান্ডেজ (Knee Brace) পরে আছেন। পার্থ টেস্টে মাত্র ১১ ওভার বল করার পরেই তিনি শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন এবং ইনজুরির কারণে তাঁকে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে সতর্কতামূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন একজন ইনজুরিগ্রস্ত খেলোয়াড়ের হেলমেট ছাড়া এবং হাঁটুতে ব্রেস পরে ই-স্কুটার চালানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এটি তাঁর ইনজুরিকে আরও গভীর করতে পারত, যা দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

imgi 1 104328881 0 image m 15 1764578520676
ব্রিসবেন টেস্টের আগে ট্রাফিক আইন ভাঙলেন বেন স্টোকস ও মার্ক উড!

কুইন্সল্যান্ডের কঠোর ট্রাফিক আইন ও জরিমানার অঙ্ক

অস্ট্রেলিয়া, বিশেষ করে কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্য, তাদের সড়ক নিরাপত্তা আইনের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। সেখানে ই-স্কুটার বা সাইকেল চালানোর সময় হেলমেট পরিধান করা বাধ্যতামূলক। পর্যটক বা তারকা—আইন সবার জন্যই সমান।

বেন স্টোকস এবং তাঁর সতীর্থরা হেলমেট ছাড়া ই-স্কুটার চালিয়ে কুইন্সল্যান্ডের সড়ক আইনের ধারা ২৫৬এ(১) লঙ্ঘন করেছেন। এই ধারা অনুযায়ী:

  • যেকোনো চালক বা যাত্রী, যারা ব্যক্তিগত মোবিলিটি ডিভাইস (যেমন ই-স্কুটার) ব্যবহার করবেন, তাঁদের অবশ্যই অনুমোদিত হেলমেট পরিধান করতে হবে।
  • এই আইন অমান্য করলে তাৎক্ষণিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, হেলমেট ছাড়া ই-স্কুটার চালানোর দায়ে প্রত্যেক চালককে সর্বোচ্চ ১৬৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১২-১৩ হাজার টাকা) জরিমানা গুনতে হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জন্য এই অর্থের অঙ্কটি নগণ্য, কিন্তু একটি জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তাঁদের এই আচরণ দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

ইংল্যান্ড দলের অতীত ইতিহাস: অস্ট্রেলিয়ায় আইন ভাঙার পুনরাবৃত্তি

অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে ইংল্যান্ড দলের আইন ভাঙার বা বিতর্কে জড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার ইংলিশ ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়ার ট্রাফিক আইন অমান্য করে জরিমানার শিকার হয়েছেন। এটি যেন অনেকটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। নিচে এমন কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা তুলে ধরা হলো:

১. কেভিন পিটারসনের সেই দ্রুতগতির ড্রাইভিং (২০১০-১১ মৌসুম)

ইংলিশ ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি ব্যাটার কেভিন পিটারসনও (Kevin Pietersen) অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাননি। ২০১০-১১ অ্যাশেজ সিরিজে মেলবোর্নে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর, তিনি নিজের ল্যাম্ব অরগিনি গাড়িটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন। মেলবোর্নের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনুমোদিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে তাঁকে পুলিশ আটকায়। সেই সময় তাঁকে ২৩৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।

২. জোনাথন অ্যাগনিউ এবং ‘জয়ওয়াকিং’ কান্ড

সাত বছর পর, ২০১৭-১৮ অ্যাশেজ সফরের সময় সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার এবং বর্তমানের খ্যাতনামা ধারাভাষ্যকার জোনাথন অ্যাগনিউ (Jonathan Agnew) অ্যাডিলেডে পুলিশের মুখোমুখি হন। তাঁর অপরাধ ছিল ‘জয়ওয়াকিং’ বা ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনে রাস্তা পার হওয়া।

অ্যাগনিউ পরবর্তীতে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন:

“ফাঁকা রাস্তা পার হওয়ার কারণে ‘০০৪৫’ সড়কে আমাকে আটকানো হলো। অ্যাডিলেড! আগে আমি তোমাকে ভালোবাসতাম! সত্যিই দুঃখজনক। সেখানে চারজন পুলিশ অফিসার ছিলেন এবং তারা অত্যন্ত রূক্ষ ও অভদ্র আচরণ করেছেন।”

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয় না, তা তিনি যতই বড় তারকা হোন না কেন। বর্তমান ঘটনাটি সেই ইতিহাসেরই এক নতুন সংযোজন।

অ্যাশেজ সিরিজের ওপর এই ঘটনার প্রভাব

মাঠের পারফরম্যান্সে যখন দল ধুঁকছে, তখন মাঠের বাইরের এই নেতিবাচক সংবাদ দলের মনোবলে চিড় ধরাতে পারে।

  • মানসিক চাপ: পার্থে বড় হারের পর এমনিতেই দল ব্যাকফুটে। তার ওপর অধিনায়কের এমন আচরণ সংবাদমাধ্যমের ফোকাস ক্রিকেট থেকে সরিয়ে বিতর্কের দিকে নিয়ে গেছে।
  • নেতৃত্বের প্রশ্ন: বেন স্টোকস দলের নেতা। তাঁর কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে এটি ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
  • ইনজুরি ব্যবস্থাপনা: মার্ক উডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বোলার, যিনি ইনজুরিতে আছেন, তাঁর এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ইসিবি (ECB) মেডিকেল টিমের জন্যও উদ্বেগের কারণ।
imgi 1 G7F GBIWMAIPOvb
ব্রিসবেন টেস্টের আগে ট্রাফিক আইন ভাঙলেন বেন স্টোকস ও মার্ক উড!

এক নজরে পুরো ঘটনা

পাঠকদের সুবিধার্থে এই ঘটনার মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • জড়িত ক্রিকেটাররা: বেন স্টোকস (অধিনায়ক), মার্ক উড এবং জেমি স্মিথ।
  • অপরাধ: ব্রিসবেনের রাস্তায় হেলমেট ছাড়া ই-স্কুটার চালানো।
  • লঙ্ঘিত আইন: কুইন্সল্যান্ড রোড রুলস, ধারা ২৫৬এ(১)।
  • সম্ভাব্য শাস্তি: প্রত্যেকের জন্য ১৬৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা।
  • বিশেষ দ্রষ্টব্য: ইনজুরি সত্ত্বেও মার্ক উড হাঁটুতে ব্রেস পরে স্কুটার চালাচ্ছিলেন।
  • অতীত রেকর্ড: এর আগে কেভিন পিটারসন (ওভার স্পিডিং) এবং জোনাথন অ্যাগনিউ (জয়ওয়াকিং) অস্ট্রেলিয়ায় জরিমানার শিকার হয়েছিলেন।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

অ্যাশেজ সিরিজ কেবল একটি খেলা নয়, এটি আত্মমর্যাদার লড়াই। পার্থ টেস্টে হারের পর ইংল্যান্ড দলের উচিত ছিল নিজেদের ভুল শুধরে ব্রিসবেন টেস্টের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হওয়া। কিন্তু বেন স্টোকস, মার্ক উড এবং জেমি স্মিথের এই অসতর্ক আচরণ দলের পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

১৬৬ ডলারের জরিমানা হয়তো এই ধনী ক্রিকেটারদের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের মাটিতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখানো এবং ইনজুরি নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া—কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীল অ্যাথলেটের পরিচয় বহন করে না। এখন দেখার বিষয়, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক পেছনে ফেলে ইংল্যান্ড দল ব্রিসবেনের বাইশ গজে নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করবেন, খবরের শিরোনাম ট্রাফিক আইন ভাঙার জন্য নয়, বরং ব্যাট-বলের লড়াইয়ের জন্যই হবে।

আরও বিস্তারিত আপডেট ও খবর জানতে ভিজিট করুন আমাদের নিউজ ওয়েবসাইট jitawins News


bn_BDবাংলা