jitawins.com

বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের জন্য একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম

সিডনি টেস্টে বেথেলের বীরত্বগাথা: সেঞ্চুরির পরও কি হার এড়াতে পারবে ইংল্যান্ড?

সিডনি টেস্টে বেথেলের বীরত্বগাথা: সেঞ্চুরির পরও কি হার এড়াতে পারবে ইংল্যান্ড?

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (SCG) চলমান অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে জ্যাকব বেথেলের অভিষেক সেঞ্চুরি সত্ত্বেও পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে ইংল্যান্ড। ১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা ইংলিশরা চতুর্থ দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩০২ রান সংগ্রহ করেছে, যা তাদের মাত্র ১১৯ রানের স্বল্প ব্যবধানে এগিয়ে রেখেছে। হাতে মাত্র ২ উইকেট নিয়ে পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে ইনিংস পরাজয় বা বড় হারের আশঙ্কায় কাঁপছে বেন স্টোকসের দল।

কেন জ্যাকব বেথেলের সেঞ্চুরিও ইংল্যান্ডকে নিরাপদ করতে পারল না?

সিডনি টেস্টের চতুর্থ দিনে ২২ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি জ্যাকব বেথেল তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১৪২ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অপর প্রান্তে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ব্যর্থতা ইংল্যান্ডকে বিপাকে ফেলেছে। বিশেষ করে জ্যাক ক্রলি (১) এবং নির্ভরযোগ্য জো রুটের (৬) দ্রুত বিদায় মিডল অর্ডারের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে। যদিও হ্যারি ব্রুক ৪২ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে চতুর্থ উইকেটে ১০২ রানের জুটি গড়েন, কিন্তু তার বিদায়ের পর ব্যাটিং ধস শুরু হয়। সিডনির স্পিন-সহায়ক উইকেটে অজি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বেন স্টোকস বা জেমি স্মিথের মতো হার্ড-হিটাররা উইকেটে টিকতে না পারায় বেথেলের লড়াইটি একক প্রচেষ্টায় রূপ নেয়।

অস্ট্রেলিয়ার ৫৬৭ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের বিপরীতে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পূরণ করাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। স্টিভ স্মিথের ১৩৮ রান এবং বাউ ওয়েবস্টারের ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে বড় লিড এনে দেয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্ট্রেলীয় বোলারদের আগ্রাসন বিশেষ করে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের রিভার্স সুইং চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ইংল্যান্ডের লোয়ার অর্ডারকে তছনছ করে দিয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত অর্জনে বেথেল সফল হলেও দলীয় লক্ষ্য অর্জনে ইংল্যান্ড এখন খাদের কিনারায়। মাত্র ১১৯ রানের লিড নিয়ে পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়াকে লক্ষ্য দেওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়, কারণ সিডনির উইকেট চতুর্থ ইনিংসেও ব্যাটারদের কিছুটা সহায়তা করে থাকে।

imgi 1 G DI3ulbwAANKl1
সিডনি টেস্টে বেথেলের বীরত্বগাথা: সেঞ্চুরির পরও কি হার এড়াতে পারবে ইংল্যান্ড?

অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য ও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ধসের কারণ কী?

অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের মূলে ছিল তাদের বোলারদের ধারাবাহিকতা এবং ফিল্ডিংয়ের দক্ষতা। তৃতীয় দিনে স্টিভ স্মিথের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং চতুর্থ দিনের সকালে বাউ ওয়েবস্টারের লড়াকু ইনিংস অজিদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখে। ইংল্যান্ড যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে, তখন তাদের প্রয়োজন ছিল অন্তত দুটি বড় জুটি। কিন্তু বেন ডাকেট (৪২) সেট হওয়ার পর উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসায় ইংল্যান্ড বড় ইনিংস গড়ার সুযোগ হারায়। রয়টার্সের স্পোর্টস কলামে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারের ব্যর্থতা সিডনি টেস্টেও স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, যেখানে অভিজ্ঞ ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট ধরে রাখতে পারছেন না।

ইংল্যান্ডের পরাজয়ের আশঙ্কার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো অধিনায়ক বেন স্টোকসের চোট। ইনজুরি নিয়ে ব্যাট করতে নামা স্টোকস সাবলীল ছিলেন না এবং দ্রুত রান আউটের শিকার হওয়া দলের মনোবল ভেঙে দেয়। এছাড়া জেমি স্মিথের আত্মঘাতী রান আউট প্রমাণ করে যে চাপের মুখে ইংলিশ ব্যাটাররা স্নায়ু ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্যাট কামিন্স এবং নাথান লায়ন বল হাতে যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন, তার জবাব বেথেল ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারেননি। সিডনির শুকনো উইকেটে লায়নের স্পিন পঞ্চম দিনে বিষদাঁত বের করবে, যা ইংল্যান্ডের শেষ দুই উইকেটের পক্ষে মোকাবেলা করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

এক নজরে সিডনি টেস্টের স্কোরবোর্ড

পর্যায়দলরান/উইকেটমূল পারফর্মার
১ম ইনিংসইংল্যান্ড৩৮৪/১০হ্যারি ব্রুক (৮৫)
১ম ইনিংসঅস্ট্রেলিয়া৫৬৭/১০স্টিভ স্মিথ (১৩৮)
২য় ইনিংস (চলমান)ইংল্যান্ড৩০২/৮*জ্যাকব বেথেল (১৪২)**
বর্তমান লিডইংল্যান্ড১১৯ রানহাতে ২ উইকেট
imgi 12 G DDETUWsAA7bge
সিডনি টেস্টে বেথেলের বীরত্বগাথা: সেঞ্চুরির পরও কি হার এড়াতে পারবে ইংল্যান্ড?

পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ডের জন্য অলৌকিক কিছু ঘটা কি সম্ভব?

পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ডের একমাত্র আশা এখন জ্যাকব বেথেলের অতিপ্রাকৃত কোনো ব্যাটিং এবং ম্যাথু পটসের দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লিড যদি কোনোভাবে ২০০ ছাড়িয়ে যায়, তবেই ইংল্যান্ড লড়াই করার মতো পুঁজি পাবে। তবে সিডনির ইতিহাস বলছে, শেষ দিনে নাথান লায়ন অত্যন্ত ভয়ানক হয়ে ওঠেন। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিডনির টার্নিং ট্র্যাকে পঞ্চম দিনে ব্যাটিং করা যেকোনো দলের জন্যই দুঃস্বপ্ন হতে পারে। ইংল্যান্ডকে অলৌকিক কিছু করতে হলে বেথেলকে ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতকের দিকে যেতে হবে এবং বোলারদের দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার দ্রুত গুঁড়িয়ে দিতে হবে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে যে আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে, তাতে ১১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করা তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। উসমান খাজা এবং মার্নাস লাবুশেনের মতো ইন-ফর্ম ব্যাটারদের জন্য এই টার্গেট মোটেও চ্যালেঞ্জিং হবে না। ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক দিক কেবল ব্রাইডন কার্স ও জশ টাংয়ের ফর্ম, যারা অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। তবে পরাজয় এড়াতে হলে ইংল্যান্ডকে প্রথমে তাদের লিড বাড়িয়ে ১৫০-২০০ এর ঘরে নিতে হবে, যা এই মুহূর্তে অষ্টম উইকেট পতনের পর প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে।

কেন বেন স্টোকসের অধিনায়কত্ব ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে?

এই টেস্টে ইংল্যান্ডের রণকৌশল এবং বিশেষ করে বেন স্টোকসের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। চোট থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি আগে ব্যাটিংয়ে নামলেন না বা দলের টেল-এন্ডারদের কেন আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিতে পারলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গার্ডিয়ানের সাংবাদিক সিডনি থেকে পাঠনো প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে, ইংল্যান্ডের ব্যাজবল ঘরানা এখন অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সের কাছে নতি স্বীকার করছে। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটে রান আউট হওয়া বা ক্যাচ দিয়ে আসা ইংল্যান্ডকে সিরিজ হার নিশ্চিত করার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ড সেটআপ এবং নাথান লায়নকে ব্যবহারের কৌশল ছিল মাস্টারক্লাস। প্যাট কামিন্স জানতেন কখন রিভার্স সুইং কাজ করবে এবং কখন স্পিনারকে আক্রমণে আনতে হবে। ইংল্যান্ডের বোলাররা ভালো করলেও তাদের ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে জো রুটের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারের ব্যর্থতা ইংল্যান্ডের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। বেথেলের একক লড়াই প্রশংসনীয় হলেও এটি একটি দলীয় খেলা, যেখানে ইংল্যান্ডের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

imgi 15 G C1Y 6XMAA5lXR
সিডনি টেস্টে বেথেলের বীরত্বগাথা: সেঞ্চুরির পরও কি হার এড়াতে পারবে ইংল্যান্ড?

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

সিডনি টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ড যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তাকে “অতল গহ্বর” বললে ভুল হবে না। জ্যাকব বেথেলের চোয়ালবদ্ধ লড়াই ক্রিকেট প্রেমীদের মুগ্ধ করলেও ক্রিকেট তো দলগত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। ১৮৩ রানের ঘাটতি মিটিয়ে ইংল্যান্ড যখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো তাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। ১০২ রানের বড় জুটি গড়ার পরও হ্যারি ব্রুক ও বেথেল সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি অন্য সতীর্থদের ব্যর্থতার কারণে। সিডনির উইকেট সাধারণত চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে মন্থর হয়ে যায় এবং স্পিনারদের জন্য স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়, যা নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞ স্পিনারের জন্য আদর্শ সুযোগ।

অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে যে লিড পেয়েছে বা ইংল্যান্ডকে যে অল্প রানে আটকে রেখেছে, তাতে প্যাট কামিন্সের দলের সিরিজ জয়ের উৎসব কেবল সময়ের ব্যাপার। ইংল্যান্ড যদি অলৌকিক কিছু ঘটাতে চায়, তবে তাদের লিড অন্তত ২০০ ছাড়াতে হবে, যা করার জন্য ম্যাথু পটসকে নিয়ে বেথেলকে আরও অন্তত দুই সেশন টিকে থাকতে হবে। কিন্তু অজি পেসারদের গতির সামনে এটি হিমালয় জয়ের সমান কঠিন। দিনশেষে বেথেলের সেঞ্চুরি হয়তো রেকর্ড বুকে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, কিন্তু দলের পরাজয় সেই অর্জনকে ম্লান করে দেবে। ইংল্যান্ডের এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে যে, বড় ফরম্যাটের ক্রিকেটে কেবল আক্রমণাত্মক হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং ইনিংস ধরে রাখার শিল্পটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, পঞ্চম দিনের প্রথম সকালে ইংলিশ লোয়ার অর্ডার কতক্ষণ প্রতিরোধ গড়তে পারে।

আরও বিস্তারিত আপডেট ও খবর জানতে ভিজিট করুন আমাদের নিউজ ওয়েবসাইট jitawins News


bn_BDবাংলা