আইসিসি ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের নতুন সুপার সিরিজ কাঠামো নিয়ে ক্ষুব্ধ সহযোগী দেশগুলো। নামিবিয়া ক্রিকেট প্রধান রুডি ফন বুরেন তাদের টি-টোয়েন্টি ও বৃহত্তর চিত্রে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ (2027 ODI World Cup)-এর জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) কর্তৃক ঘোষিত নতুন ‘সুপার সিরিজ’ কাঠামো ক্রিকেট বিশ্বে, বিশেষ করে সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার পরই দুটি দলের বিদায় নেওয়ার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড এবং নামিবিয়ার অধিনায়করা তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে, এই উত্তেজনার মধ্যেই নামিবিয়া ক্রিকেটের সভাপতি ও আইসিসির নতুন বোর্ড সদস্য রুডি ফন বুরেন (Rudie van Vuuren) সহযোগী দেশগুলোকে ওডিআই ক্রিকেটের পড়তি জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের দিকে মনোযোগ দেওয়ার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ‘বৃহত্তর চিত্র’ বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন।

কেন আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপের নতুন কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে সহযোগী দেশগুলোতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে?
আগামী ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য ক্রিকেট বিশ্বকাপ (Cricket World Cup)-এর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনেছে আইসিসি, যা সহযোগী দেশগুলোর জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। টুর্নামেন্টে ১৪টি দল অংশগ্রহণ করলেও, আইসিসির নতুন সুপার সিরিজ (Super Series) কাঠামোর অধীনে দুটি দলকে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেই আসর থেকে বিদায় নিতে হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ ২’ বা ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’-এর মতো প্রতিযোগিতায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জনের পর মাত্র দুটি ম্যাচের সুযোগ পাওয়াকে সহযোগী দেশগুলো তাদের প্রতি চরম অবিচার হিসেবে দেখছে। ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরা মেনে নিচ্ছি যে বিশ্বমঞ্চে খেলার অধিকার অর্জন করতে হয়, কিন্তু আমরা এও চাই যে যোগ্যতা অর্জনের পর সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিযোগিতা করার প্রকৃত সুযোগ দেওয়া হোক; সহযোগী স্তরে সীমিত সুযোগের দীর্ঘ ইতিহাসের পর এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক।” ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ESPNcricinfo)-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে সহযোগী দেশগুলোর এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং আইসিসির বৈষম্যমূলক আচরণের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর সহযোগী দেশগুলোর অধিনায়করা আইসিসির দ্বৈত নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। নেদারল্যান্ডসের প্রাক্তন অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস আইসিসির সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, “আইসিসি বিশ্বজুড়ে খেলাটির প্রসারের কথা অনেক বলে, কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত সহযোগী দেশগুলোর জন্য বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলা আরও কঠিন করে তোলে।” অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক রিচি বেরিংটন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সহযোগী দেশগুলোর অধিকতর অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “খেলা এবং খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্তগুলোতে আমাদের অর্থপূর্ণভাবে পরামর্শ করা উচিত।” ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া দলগুলোর ওপর টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে এমন আকস্মিক ও বিতর্কিত নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের সুষম উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
নামিবিয়া ক্রিকেটের সভাপতি রুডি ফন বুরেন কেন সহযোগী দেশগুলোকে ‘বৃহত্তর চিত্র’ দেখার আহ্বান জানিয়েছেন?
গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে জোহানেসবার্গের স্যান্ডটনে আয়োজিত ২০২৭ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আইসিসির শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে নামিবিয়া ক্রিকেটের সভাপতি রুডি ফন বুরেন (Rudie van Vuuren) এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। যখন সহযোগী দেশগুলো ক্ষোভে ফুঁসছে, তখন তিনি তাদের এই পরিবর্তিত সূচিকে একটি নির্দিষ্ট ‘প্রেক্ষাপটে’ বিচার করার এবং ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে ছোট ফরম্যাট অর্থাৎ টি-টোয়েন্টির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফন বুরেন বলেন, “আপনি যদি বৃহত্তর চিত্রটি বোঝেন, তবে এই সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক মনে হবে। আমাদের এটিকে একটি প্রেক্ষাপটে রাখতে হবে। আপনি যদি ওডিআই ক্রিকেটের দর্শক সংখ্যা বা জনপ্রিয়তার দিকে তাকান, তবে আমরা সত্যিই জানি না এটি কোন দিকে যাচ্ছে। আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বেই সহযোগী দেশগুলোর জন্য আরও বেশি সুযোগ দেখতে পাচ্ছি।” আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, আইসিসির অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকরা ক্রমশ ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকে মনোযোগ সরিয়ে টি-টোয়েন্টির দিকে ঝুঁকছেন।
ফন বুরেন আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, ভবিষ্যতে আইসিসির তহবিল বণ্টন প্রক্রিয়া (Funding Mechanisms) পুরোপুরি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। ২০২৭ সালের পরবর্তী চক্রের জন্য আইসিসি যখন নতুন সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে, তখন সহযোগী দেশগুলো সেই ফরম্যাটেই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে যা বিশ্বজুড়ে খেলার প্রসার ঘটাচ্ছে। যদিও ভবিষ্যতের আর্থিক মডেল কেমন হবে তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে ফন বুরেন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে অর্থায়নের মূল লক্ষ্যই হবে “আরও বেশি সহযোগী দেশকে টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে নিয়ে আসা।” ইএসপিএন ক্রিকইনফোর বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে কীভাবে এই নতুন সুপার সিরিজ এবং সুপার সেভেন কাঠামো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সম্প্রচার রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল হিসেবে কাজ করবে, যা পরোক্ষভাবে ফন বুরেনের অর্থনৈতিক যুক্তিরই প্রতিধ্বনি করে।
এক নজরে: আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৭-এর নতুন কাঠামো ও বিতর্ক
| বিষয়বস্তু | বিস্তারিত তথ্য |
| আয়োজক দেশসমূহ | দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া (অক্টোবর-নভেম্বর ২০২৭) |
| মোট অংশগ্রহণকারী দল | ১৪টি দল |
| বিতর্কিত কাঠামো | সুপার সিরিজ (Super Series) – যেখানে দুটি দল মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে বাদ পড়বে |
| ক্ষুব্ধ সহযোগী দেশ | নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড (সমালোচক: ইরাসমাস, এডওয়ার্ডস, বেরিংটন) |
| ফন বুরেনের পরামর্শ | ওডিআইয়ের বদলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup)-এ মনোযোগ দেওয়া |
| ভবিষ্যৎ আর্থিক মডেল | ২০২৭ পরবর্তী চক্রে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অধিক তহবিল বরাদ্দের সম্ভাবনা |
২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং বৈশ্বিক বাছাইপর্বের নতুন কাঠামো কীভাবে কাজ করবে?
ওডিআই বিশ্বকাপের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup)-এর কাঠামোতেও আইসিসি ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, যা ২০২৮ সালের আসর থেকে কার্যকর হবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হলো বর্তমান আঞ্চলিক বাছাইপর্বের (Regional Qualifiers) পরিবর্তে একটি একক বৈশ্বিক বাছাইপর্ব (Global Qualifier) প্রবর্তন করা। পূর্বে মহাদেশভিত্তিক কোটা সিস্টেমের কারণে ইতালি এবং উগান্ডার মতো দলগুলো পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে মহাদেশীয় কোটা বাতিল করে শীর্ষ পারফর্মিং সহযোগী দেশগুলোকে একটি একক বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অবতীর্ণ হতে হবে, যেখান থেকে চূড়ান্ত টুর্নামেন্টের জন্য দল নির্বাচিত হবে। এটি সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করবে এবং শুধুমাত্র সেরা দলগুলোই মূল মঞ্চে আসার সুযোগ পাবে, যা বৈশ্বিক ক্রিকেটের গুণগত মান বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে, নামিবিয়া ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ফন বুরেনের মতে, এই বৈশ্বিক বাছাইপর্ব প্রক্রিয়াটি মূলত একটি অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ, যা ২০৩০ সালের মেগা ইভেন্টের আগে আবারও পরিবর্তিত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “এটি একটি আকর্ষণীয় বিষয় হতে যাচ্ছে। আমি যতটুকু বুঝি, বৈশ্বিক বাছাইপর্ব একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ। টি-টোয়েন্টির জন্য এই বাছাইপর্বের পর আরেকটি নতুন কাঠামো আসবে এবং সেটি আইসিসির ভবিষ্যৎ তহবিল কাঠামোর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকবে।” ক্রিকইনফোর এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরিবর্তনশীল কাঠামো প্রমাণ করে যে আইসিসি এখনো সহযোগী দেশগুলোর জন্য একটি স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদী টুর্নামেন্ট রূপরেখা তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছে, এবং প্রতিটি পরিবর্তনই মূলত সম্প্রচারকদের চাহিদা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর কর্মসূচি (FTP) এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কী ধরনের সম্প্রসারণ আসতে পারে?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রূপরেখা নির্ধারণে আগামী কয়েক মাস আইসিসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বোর্ড বর্তমানে খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ম্যাকিনসে (McKinsey) নামক একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক কৌশল ও ব্যবস্থাপনা সংস্থার সাথে কাজ করছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভায় ম্যাকিনসের একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করার কথা রয়েছে। তার আগেই, সেপ্টেম্বরে একটি ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (Future Tours Programme – FTP) কর্মশালায় সদস্য দেশগুলো মিলিত হবে, যেখানে ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চলা আগামী চক্রের আন্তর্জাতিক সিরিজের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। যদিও আগামী বছরের অ্যাশেজ (Ashes)-এর মতো কিছু ঐতিহাসিক সিরিজের ঘোষণা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, তবুও নভেম্বরের ত্রৈমাসিক সভায় এই সম্পূর্ণ এফটিপি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত ও অনুমোদিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী চক্রে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (World Test Championship) সম্প্রসারিত হতে পারে এবং এতে অন্তত জিম্বাবুয়েকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের মতো নতুন টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য লাল বলের ক্রিকেট আর্থিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতে তাদের আগ্রহও তুলনামূলকভাবে কম। সহযোগী দেশগুলোর জন্য টেস্ট বা ওডিআই ক্যালেন্ডার ঠিক কেমন হবে তা নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত রূপরেখা দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও, রুডি ফন বুরেন অত্যন্ত আশাবাদী যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সামগ্রিক চিত্র খুব দ্রুত উন্নত হবে, বিশেষ করে যখন ক্রিকেট নিজেকে একটি অলিম্পিক খেলা (Olympic sport) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের বৈশ্বিক ভিশন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারণ করবে?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সার্বিক ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)-এর হাতে কেন্দ্রীভূত, যার একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক ভিশন রয়েছে। রুডি ফন বুরেন জোহানেসবার্গের অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করেই বলেছেন, “চেয়ারম্যানের একটি বড় রূপকল্প রয়েছে ক্রিকেটকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলা হিসেবে গড়ে তোলার।” এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধুমাত্র শীর্ষস্থানীয় পূর্ণাঙ্গ সদস্য দেশগুলোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং বিশ্বজুড়ে সহযোগী দেশ (Associate Nations)-গুলোর ক্রিকেটীয় অবকাঠামো এবং মান উন্নয়ন করা অপরিহার্য। জয় শাহের এই ভিশনের মূল ভিত্তি হলো ক্রিকেটের বিশ্বায়ন, আর সেই বিশ্বায়নের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকেই বেছে নিয়েছে আইসিসি, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের এবং নতুন দর্শকদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
এই বৈশ্বিক প্রসারের জন্য আইসিসিকে সহযোগী দলগুলোর জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে, যা শুধুমাত্র মুখের কথায় নয়, বরং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। ফন বুরেন জোর দিয়ে বলেন, “আপনি যদি ক্রিকেটকে সবচেয়ে বড় খেলা করতে চান, তবে আপনাকে সহযোগী দলগুলোকে বড় করতে হবে। আর সেটি করার জন্য আপনাকে তাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।” অলিম্পিকে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি জয় শাহের এই বৈশ্বিক ভিশনের একটি বড় বিজয়। এখন আইসিসির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ২০২৭-২০৩১ চক্রের নতুন মিডিয়া স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব এমনভাবে বণ্টন করা, যাতে সেটি শুধুমাত্র ভারত, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বিগ থ্রি (Big Three)-র পকেটেই না যায়, বরং নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডসের মতো উদীয়মান দেশগুলোতেও তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের প্রসার ঘটায়।
FAQ
১. ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে আইসিসি কী নতুন নিয়ম চালু করেছে?
২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে আইসিসি একটি নতুন ‘সুপার সিরিজ’ কাঠামো চালু করেছে। এই নিয়মের অধীনে ১৪টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে দুটি দলকে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার পরই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
২. সহযোগী দেশগুলো কেন এই নতুন কাঠামোর তীব্র বিরোধিতা করছে?
সহযোগী দেশগুলো, বিশেষ করে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস এবং স্কটল্যান্ড মনে করে যে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যোগ্যতা অর্জনের পর মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া তাদের প্রতি চরম অবিচার। এটি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে।
৩. নামিবিয়া ক্রিকেটের সভাপতি রুডি ফন বুরেন সহযোগী দেশগুলোকে কী পরামর্শ দিয়েছেন?
রুডি ফন বুরেন ক্ষুব্ধ সহযোগী দেশগুলোকে ‘বৃহত্তর চিত্র’ দেখার এবং ওডিআইয়ের বদলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ ওডিআই ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বর্তমানে নিম্নমুখী এবং আইসিসির ভবিষ্যৎ তহবিল টি-টোয়েন্টি ঘিরেই আবর্তিত হবে।
৪. ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাছাইপর্বের কী পরিবর্তন আসছে?
২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আইসিসি বর্তমান আঞ্চলিক বাছাইপর্ব (Regional Qualifiers) বাতিল করে একটি একক ‘বৈশ্বিক বাছাইপর্ব’ (Global Qualifier) চালু করতে যাচ্ছে। শীর্ষ সহযোগী দেশগুলোকে এই একক টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (WTC) নতুন কোন দেশ যুক্ত হতে পারে?
আসন্ন ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (FTP) ২০২৭-২০৩১ চক্রে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে জিম্বাবুয়েকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের টেস্ট খেলা নিয়ে আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
৬. আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের বৈশ্বিক ভিশন কী?
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের মূল ভিশন হলো ক্রিকেটকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। অলিম্পিকে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি এবং সহযোগী দেশগুলোর উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের প্রসার ঘটানোই তার প্রধান লক্ষ্য।

JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার
২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এবং সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্ট এই দ্বন্দ্ব মূলত বিশ্ব ক্রিকেটের একটি বৃহত্তর রূপান্তর প্রক্রিয়ারই অংশ। একদিকে সহযোগী দেশগুলোর অধিনায়করা—গেরহার্ড ইরাসমাস, স্কট এডওয়ার্ডস এবং রিচি বেরিংটন—বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে সমান সুযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের ন্যায্য অংশগ্রহণের জন্য ন্যায়সঙ্গত দাবি তুলছেন। দীর্ঘ বাছাইপর্ব পেরিয়ে এসে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া যেকোনো দলের জন্যই মানসিকভাবে হতাশাজনক এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিকর। কিন্তু অন্যদিকে, নামিবিয়া ক্রিকেটের সভাপতি রুডি ফন বুরেন যে রূঢ় বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আধুনিক বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ওডিআই ক্রিকেটের দর্শক সংখ্যা এবং বাণিজ্যিক আবেদন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে সম্প্রচারকরা এবং আইসিসি বাধ্য হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দিকে নিজেদের সম্পূর্ণ মনোযোগ এবং আর্থিক বিনিয়োগ স্থানান্তর করতে।
আইসিসির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বৈশ্বিক বাছাইপর্ব এবং ম্যাকিনসের (McKinsey) আসন্ন রিপোর্ট স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে শর্ট-ফরম্যাট গেমের ওপর নির্ভরশীল। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের ক্রিকেটকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলা হিসেবে গড়ে তোলার ভিশন বাস্তবায়ন করতে হলে টি-টোয়েন্টির বিশ্বায়নের কোনো বিকল্প নেই। তবে, আইসিসিকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ‘সুপার সিরিজ’-এর মতো বিতর্কিত নিয়ম চাপিয়ে দিয়ে সহযোগী দেশগুলোকে যেন প্রান্তিকীকরণের শিকার না করা হয়। ২০২৭-২০৩১ চক্রের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (FTP) এবং নতুন আর্থিক মডেলে সহযোগী দেশগুলোর জন্য যদি পর্যাপ্ত তহবিল এবং উচ্চপর্যায়ের ক্রিকেট খেলার সুযোগ রাখা না হয়, তবে ক্রিকেটের বিশ্বায়নের স্বপ্ন কেবল একটি ফাঁকা বুলিতে পরিণত হবে। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে, আইসিসিকে বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং ক্রিকেট উন্নয়নের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যাতে নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোও বিশ্ব মঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
আরও বিস্তারিত আপডেট ও খবর জানতে ভিজিট করুন আমাদের নিউজ ওয়েবসাইট jitawins News







