আর্জেন্টাইন মহাতারকা ও ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি স্পেনের পেশাদার ফুটবলে নিজের ক্লাব মালিকানার পরিধি আরও বাড়িয়ে দেশটির দ্বিতীয় বিভাগের দল সিডি এলদেন্স (CD Eldense)-এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা অর্জনে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন। বর্তমান মালিকানাধীন কলম্বিয়ান কনসোর্টিয়াম গ্রুপো টিএইচ (Grupo TH)-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে থাকা এই ঐতিহাসিক ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্পেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (CSD)-এর চূড়ান্ত অনুমোদন এবং অর্থনৈতিক যাচাই-বাছাই (Due Diligence) সফলভাবে সম্পন্ন হলেই চলতি বছর স্পেনে এটি হতে যাচ্ছে মেসির দ্বিতীয় ফুটবল বিনিয়োগ। স্প্যানিশ লিগের পেশাদার স্তরে এই নতুন বিনিয়োগ বিশ্বজুড়ে ফুটবল অর্থনীতিবিদদের নজর কেড়েছে, যা মেসির মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যকে নতুন এক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এনে দিচ্ছে। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব এলদেন্সের মালিকানা কিনছেন লিওনেল মেসি। পেশাদার ফুটবলে বিনিয়োগ, সিএসডি অনুমোদন ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ আইন।

কেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এলদেন্সকে বেছে নিলেন লিওনেল মেসি?
স্প্যানিশ ফুটবলে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সোনালী অধ্যায় রচনা করা ৩৯ বছর বয়সী বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসির জন্য এই বিনিয়োগ কেবল একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইউরোপের মাটিতে ফুটবল সংস্কৃতিকে ব্যবসায়িক সফলতায় রূপান্তরের এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। চলতি বছরের শুরুর দিকে বার্সেলোনা অঞ্চলের পঞ্চম বিভাগের দল ইউই কর্নেয়া (UE Cornellà) কিনে নিলেও সেটি ছিল আধা-পেশাদার পর্যায়ের একটি প্রাথমিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে একাডেমি পর্যায়ের খেলোয়াড় তুলে আনার কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। তবে স্পেনের স্বীকৃত পেশাদার ফুটবল পিরামিডের মূল স্রোতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করতেই তিনি এবার নজর দিয়েছেন ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের প্রাচীন ক্লাব সিডি এলদেন্সের দিকে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এই চাঞ্চল্যকর অগ্রগতির তথ্য প্রথম প্রকাশ্যে এনেছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ক্রীড়া নেটওয়ার্ক ESPN, যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে যে গ্রুপো টিএইচের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আর্থিক অডিট প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে।
এলদেন্সের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো মেসির সামনে স্পেনের প্রথম সারির অর্থাৎ লা লিগায় ওঠার একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করেছে, যা নিম্নস্তরের কর্নেয়াকে নিয়ে অনেক দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার ছিল। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ভ্যালেন্সিয়ান এই ক্লাবটির ঐতিহাসিক মাঠ নুয়েভো পেপিকো আমাতের আধুনিকায়ন এবং ক্লাবটির ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়ে ইউরোপীয় অঙ্গনে পরিচিত করে তোলাই মেসির অর্থনৈতিক দলটির মূল লক্ষ্য। মেসির বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই অধিগ্রহণের পেছনে স্প্যানিশ ফুটবলের ক্রমবর্ধমান টেলিভিশন স্বত্ব ও ডিজিটাল সম্প্রচার আয়ের সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে। স্পেনের ফুটবল কাঠামোর সাথে মেসির নিবিড় পরিচয় থাকায় এবং কাতালুনিয়া ও ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অনুরাগ এই ক্লাবটি বাছাইয়ের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
গ্রুপো টিএইচের মালিকানা হস্তান্তর এবং সিএসডি অনুমোদনের জটিল প্রক্রিয়া কী?
কলম্বিয়ান বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গ্রুপো টিএইচ দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের বহুজাতিক মালিকানা মডেলে বিনিয়োগ করে আসছে এবং কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্লাবেও তাদের উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব পরিচালনা এবং বৈশ্বিক আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে তারা এলদেন্সের শেয়ার লাভজনকভাবে হস্তান্তরের জন্য দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য বিনিয়োগকারীর সন্ধান করছিল। এই বিষয়ে অবহিত ইউরোপীয় ক্রীড়া পর্যবেক্ষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ প্রকাশনা BBC Sport জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে ক্লাবটির অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ, দেনা-পাওনার খতিয়ান এবং চুক্তির বিশদ যাচাই করতে বর্তমানে পুরোদমে ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ চালানো হচ্ছে। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা এমন এক বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছি যিনি ক্লাবের ১০০ বছরের ঐতিহ্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বে নিয়ে যেতে সক্ষম।”
তবে আর্থিক বোঝাপড়া চূড়ান্ত হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যকর করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে স্পেনের সর্বোচ্চ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনসেহো সুপিরিয়র দে দেপোর্তেস (CSD)। স্প্যানিশ কর্পোরেট ও স্পোর্টস আইন অনুসারে, কোনো পেশাদার স্পোর্টস পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বা এসএডি (SAD)-এর মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর অর্থের স্বচ্ছতা, ক্লাবের দেউলিয়াত্ব প্রতিরোধের জামানত এবং লিগ পরিচালনা বোর্ডের অ্যান্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স বাধ্যতামূলক। ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের সবুজ সংকেত না পেলে এই হস্তান্তর কার্যকর হতে পারে না। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেসির মতো স্বচ্ছ এবং বৈশ্বিকভাবে অত্যন্ত পরিচিত বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে আইনি অনুমোদন পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র, তবুও স্পেনের কঠোর আর্থিক ফেয়ার প্লে নিয়মের কারণে নথি যাচাইয়ে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
| বিবরণ ও সূচক | সিডি এলদেন্স (CD Eldense) | ইউই কর্নেয়া (UE Cornellà) |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৯২১ সাল (১০৫ বছরের ঐতিহ্য) | ১৯৫১ সাল (৭৫ বছরের ঐতিহ্য) |
| বর্তমান ফুটবল স্তর | স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগ (LaLiga Hypermotion) | স্প্যানিশ পঞ্চম বিভাগ (Tercera Federación) |
| পেশাদার মর্যাদা | পূর্ণাঙ্গ পেশাদার এসএডি (SAD) ক্লাব | আধা-পেশাদার ফুটবল একাডেমি ভিত্তিক |
| ঘরের মাঠ ও ধারণক্ষমতা | এস্তাদিও নুয়েভো পেপিকো আমাত (৫,৭৭৬ আসন) | ক্যাম্প মিউনিসিপ্যাল দে কর্নেয়া (১,৫০০ আসন) |
| মেসির শেয়ার অংশীদারিত্ব | সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা (প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত) | শতভাগ নিয়ন্ত্রক মালিকানা (২০২৬-এ অর্জিত) |
| বর্তমান লিগ পারফরম্যান্স | ৪ ম্যাচে ০ জয় (কোচ বরখাস্ত) | আঞ্চলিক লিগ টেবিলের মধ্যবর্তী অবস্থান |
কর্নেয়া ও এলদেন্সের দ্বৈত মালিকানায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সম্ভাব্য সংঘাত কী?
স্পেনীয় ফুটবল নীতিমালায় ক্লাব মালিকানার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত এড়ানো এবং প্রতিযোগিতার সততা রক্ষা করা একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর আইনি বিষয়। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (RFEF) এবং লা লিগার যৌথ আচরণবিধির অধীনে কোনো একক ব্যক্তি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা একই বিভাগের বা একে অপরের বিপক্ষে মুখোমুখি হতে পারে এমন দুটি ক্লাবের নির্ণায়ক ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন না। বর্তমানে এলদেন্স খেলছে পেশাদার দ্বিতীয় বিভাগে এবং কর্নেয়া অবস্থান করছে পঞ্চম বিভাগে; ফলে মাঠের ব্যবধান তিন স্তর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আইনি বাধা তৈরি হচ্ছে না। ইউরোপীয় ফুটবলের ব্যবসায়িক রূপরেখা ও ক্লাবের মালিকানা দ্বন্দ্বের বিভিন্ন নজির তুলে ধরে The Guardian-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের ক্লাবগুলো যখন দ্রুত প্রমোশন পেয়ে উপরের স্তরে উঠে আসে, তখনই এই জাতীয় মাল্টি-ক্লাব মডেল ফেডারেশনের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ে।
যদি ভবিষ্যতে লিওনেল মেসির পৃষ্ঠপোষকতায় কর্নেয়া দ্রুত উন্নতি করে তৃতীয় ও দ্বিতীয় বিভাগে উঠে আসে এবং এলদেন্স তাদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখে, তবে উভয় ক্লাব একই লিগে মুখোমুখি হওয়ার আইনি বাধার সম্মুখীন হবে। সে ক্ষেত্রে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ‘মাল্টি-ওনারশিপ ক্লজ’ অনুসারে একটি ক্লাবকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রমোশন থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে অথবা মেসিকে যেকোনো একটি ক্লাবের নিয়ন্ত্রক শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও সম্প্রতি একাধিক ক্লাবের মালিকানা থাকার বিরুদ্ধে অবস্থান কড়া করেছে যাতে ম্যাচ ফিক্সিং বা অনৈতিক সুবিধার সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। তাই এলদেন্সের এই নতুন বিনিয়োগ মেসির আইনজীবীদের জন্য ভবিষ্যতে কর্নেয়ার আইনি রূপরেখা নতুন করে সাজানোর এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করল।
মাঠের সংকটে থাকা এলদেন্স কি মেসির ম্যাজিকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
ঐতিহাসিক দিক থেকে সিডি এলদেন্স স্পেনের ফুটবলে এক দীর্ঘ সংগ্রামের নাম, কারণ তাদের ইতিহাসের সিংহভাগ সময়ই কেটেছে দেশটির তৃতীয় ও চতুর্থ বিভাগে। ২০২৩ সালে প্রায় ছয় দশক অর্থাৎ ১৯৬৪ সালের পর প্রথমবারের মতো স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগে উঠে এসে চমক দেখিয়েছিল দলটি। কিন্তু পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে তারা পুনরায় অবনমিত হয় এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চলতি গ্রীষ্মে আবার দ্বিতীয় বিভাগে ফিরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে। তবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুটা তাদের জন্য চরম বিপর্যয়কর প্রমাণিত হয়েছে; লিগের প্রথম চারটি ম্যাচ খেলে তারা একটিতেও জয়ের মুখ দেখতে পারেনি, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ঠেলে দিয়েছে।
এই ভয়াবহ ব্যর্থতার দায় নিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ক্লাবের প্রধান কোচ ক্লদিও বারাগানকে বরখাস্ত করেছে বর্তমান ম্যানেজমেন্ট। ফলে মেসি যখন ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে যাচ্ছেন, তখন ক্লাবটি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন এবং মাঠের পারফরম্যান্সে চরম আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে। নুয়েভো পেপিকো আমাতের স্বল্প ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে সমর্থকদের ক্ষোভ যখন তুঙ্গে, তখন মেসির এই সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি ড্রেসিংরুমে নতুন জীবনীশক্তি সঞ্চার করতে পারে। ক্লাবের একজন শীর্ষ পরিচালকের মতে, “আমরা জানি দল এখন এক কঠিন ক্রান্তিলগ্নে আছে, কিন্তু ফুটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের আগমন ক্লাবের প্রতিটি স্তরে যে ইতিবাচক স্পন্দন তুলবে, তা খেলোয়াড়দের হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট।”
FAQ
লিওনেল মেসি স্পেনে কোন ফুটবল ক্লাবটির মালিকানা কিনতে যাচ্ছেন?
লিওনেল মেসি স্পেনের পেশাদার দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবল ক্লাব সিডি এলদেন্স (CD Eldense)-এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা কিনতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন।
স্পেনে মেসির মালিকানাধীন অন্য ক্লাবটির নাম কী?
স্পেনে মেসির আরেকটি মালিকানাধীন ক্লাব রয়েছে যার নাম ইউই কর্নেয়া (UE Cornellà); এটি বার্সেলোনা অঞ্চলের পঞ্চম বিভাগের একটি আধা-পেশাদার ফুটবল ক্লাব।
এলদেন্স ক্লাবের বর্তমান মালিকানা কার হাতে রয়েছে?
বর্তমানে ক্লাবটির মূল মালিকানায় রয়েছে কলম্বিয়ান বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গ্রুপো টিএইচ (Grupo TH), যাদের কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের একাধিক ক্লাবে অংশীদারিত্ব রয়েছে।
ক্লাবটির মালিকানা চূড়ান্ত হতে কী কী আইনি আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে?
চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হতে আর্থিক লেনদেনের যথাযথ যাচাই-বাছাই বা ডিউ ডিলিজেন্স শেষ করতে হবে এবং স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল (CSD)-এর চূড়ান্ত ছাড়পত্র লাগবে।
একই দেশে দুটি ক্লাবের মালিক হওয়ায় কি কোনো আইনি সংঘাত তৈরি হবে?
আপাতত কোনো সংঘাত নেই, কারণ এলদেন্স দ্বিতীয় বিভাগে এবং কর্নেয়া পঞ্চম বিভাগে খেলছে। তবে ভবিষ্যতে উভয় ক্লাব একই বিভাগে উন্নীত হলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়মানুযায়ী মেসি যেকোনো একটি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা রাখতে পারবেন না।
এলদেন্স ক্লাবের ঘরের মাঠ এবং স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা কত?
সিডি এলদেন্সের ঘরের মাঠ হলো এস্তাদিও নুয়েভো পেপিকো আমাত, যা স্পেনের এলদা শহরে অবস্থিত এবং এর বর্তমান দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৫,৭৭৬ জন।

JitaBet , JitaWin , এবং JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন, তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!
উপসংহার
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মাঠের ভেতরে সব সম্ভাব্য ট্রফি ও স্বীকৃতি অর্জনের পর, লিওনেল মেসির এই নতুন রূপ প্রমাণ করে যে তিনি ফুটবলের বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজের দীর্ঘমেয়াদী আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করছেন। দীর্ঘ দেড় দশক বার্সেলোনার জার্সিতে মাঠ কাঁপিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন মেসি, আর আজ প্রায় ৩৯ বছর বয়সে ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক হিসেবে নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে স্পেনের মাটিতেই পেশাদার ক্লাবের বিনিয়োগকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। উরুগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএমে ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজের সাথে যৌথ অংশীদারিত্ব এবং পরবর্তীতে স্পেনের তৃণমূল ক্লাব কর্নেয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যে বাণিজ্যিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল, সিডি এলদেন্সের অধিগ্রহণ তাকে সরাসরি লা লিগার প্রবেশদ্বারে এনে দাঁড় করাল।
যদিও মাঠের ভেতরে এলদেন্সের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়—চার ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়া এবং কোচ বরখাস্তের মতো সংকটে ডুবে থাকা একটি দলকে টেনে তোলা সহজ কাজ নয়। কিন্তু মেসির মতো এক মহাতারকার নাম যখন কোনো ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়, তখন শুধু মাঠের ফুটবলেই গতি আসে না, বরং বৈশ্বিক স্পনসরশিপ, আন্তর্জাতিক একাডেমি বিনিময় এবং ব্রডকাস্টিং স্বত্বে অভাবনীয় জোয়ার আসে। যদি স্পেনের ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের অনুমোদন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে আমরা দেখতে পারি লা লিগার শীর্ষ মঞ্চে নিজের মালিকানাধীন ক্লাব নিয়ে বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে লড়ছেন লিওনেল মেসি। পেশাদারিত্ব, দূরদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং ফুটবলের প্রতি আজীবন ভালোবাসার যে নিদর্শন মেসি তৈরি করছেন, তা কেবল সিডি এলদেন্সের ইতিহাসকেই বদলে দেবে না, বরং আধুনিক ফুটবলে অ্যাথলেট থেকে ক্লাব মোগল হয়ে ওঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
আরও বিস্তারিত আপডেট ও খবর জানতে ভিজিট করুন আমাদের নিউজ ওয়েবসাইট jitawins News








মন্তব্য করুন