jitawins.com

বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের জন্য একটি বিশ্বস্ত মাধ্যম

লিওনেল মেসিকে স্পেনের হতে দেননি যিনি: ওমার সাউতোর বিদায় ও অজানা গল্প!

লিওনেল মেসিকে স্পেনের হতে দেননি যিনি: ওমার সাউতোর বিদায় ও অজানা গল্প!

লিওনেল মেসি ফুটবল বিশ্বের এক জাদুকরের নাম। যার বাঁ পায়ের জাদুতে আর্জেন্টিনা পেয়েছে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ। কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই মেসি হয়তো আজ আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে জড়াতেনই না! তিনি হতে পারতেন স্পেনের তারকা। কিন্তু একজন মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, দেশপ্রেম এবং দূরদর্শিতায় মেসি স্পেনের বদলে বেছে নিয়েছিলেন জন্মভূমি আর্জেন্টিনাকে। সেই নেপথ্য কারিগর, আর্জেন্টিনার ফুটবলের এক নিবেদিত প্রাণ, ওমার সাউতো (Omar Souto) আর আমাদের মাঝে নেই।

গত রোববার (২৩ নভেম্বর ২০২৫) ৭৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই ঐতিহাসিক ম্যানেজার। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA)-এর সাথে যুক্ত থাকা সাউতোর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল বিশ্বে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা জানব কীভাবে ওমার সাউতো মেসিকে খুঁজে বের করেছিলেন, স্পেনের প্রলোভন উপেক্ষা করে কীভাবে মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং কেন তিনি আলবিসেলেস্তে দলের কাছে ‘দ্বিতীয় বাবা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ওমার সাউতো: এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি

ওমার সাউতো ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক। প্রায় ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি জাতীয় দলের ম্যানেজার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। গত মাসেও এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিধির বিধান, সেই সম্মাননার রেশ কাটতে না কাটতেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।

এএফএ (AFA) তাদের এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানিয়েছে:

“গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ঐতিহাসিক ম্যানেজার ওমার সাউতো আর নেই। শুধু ধন্যবাদ, ওমার। আলবিসেলেস্তে-র প্রতি তোমার অবিচল দায়বদ্ধতা, মানবিকতা এবং আদর্শিক চরিত্রের জন্য আমরা তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।”

সাউতো শুধু একজন কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন খেলোয়াড়দের সুখ-দুঃখের সাথী। মারাদোনা থেকে শুরু করে মেসি—সবার সাথেই তার ছিল আত্মার সম্পর্ক।

imgi 1 messis tribute to omar s
লিওনেল মেসিকে স্পেনের হতে দেননি যিনি: ওমার সাউতোর বিদায় ও অজানা গল্প!

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: যখন মেসিকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল স্পেন

ঘটনাটি ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের। লিওনেল মেসি তখন মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন। লা মাসিয়া একাডেমিতে তার প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ছিল দ্রুত। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই হীরের টুকরোকে চিনতে ভুল করেনি। তারা মেসিকে স্পেনের নাগরিকত্ব দিয়ে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলানোর জন্য সব ধরণের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল।

ঠিক সেই সময়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল কর্তারা মেসির সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানতেন না। কারণ মেসি তখন অনেক দূরে, ইউরোপের এক ক্লাবের একাডেমিতে খেলছেন। এখানেই ত্রাতা হয়ে আসেন ওমার সাউতো।

সেই ফোনকল এবং মেসির খোঁজ: এক রোমাঞ্চকর অভিযান

২০২১ সালে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে (TyC Sports) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাউতো সেই ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

নাইজেরিয়ার সেই টুর্নামেন্ট

সাউতো জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল নাইজেরিয়ায় অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের সময়। আর্জেন্টিনা দল এবং স্পেন দল একই হোটেলে ছিল। একদিন স্পেনের কোচিং স্টাফের একজন সদস্য সাউতোকে খোঁচা দিয়ে বলেন:

“তোমরা বার্সেলোনার ওই ছেলেটাকে (মেসি) দলে নাওনি কেন? বিশ্বাস করো, তোমাদের বর্তমান দলে যারা আছে, তাদের সবার চেয়ে ও অনেক বেশি ভালো।”

সেই সময় আর্জেন্টিনা যুব দলে ছিলেন হাভিয়ের মাসচেরানো, ফার্নান্দো কাভেনাগি এবং ম্যাক্সি লোপেজের মতো তারকারা। তবুও স্প্যানিশ কোচের কথা সাউতোর মনে খটকা লাগায়।

ফোনবুকের পাতা এবং ‘লিওনার্দো’ বিভ্রান্তি

বুয়েনস আইরেসে ফিরে আসার পর তৎকালীন যুব দলের কোচ হুগো তোকালি সাউতোকে দায়িত্ব দেন ছেলেটিকে খুঁজে বের করার। কিন্তু সমস্যা হলো, সাউতো মেসির পুরো নাম জানতেন না। সবাই তাকে ‘লিও’ ডাকত বলে সাউতো ভেবেছিলেন তার নাম হয়তো ‘লিওনার্দো’।

সাউতো বলেন:

“আমি মন্টে গ্রান্দের একটি ফোন বুথে গেলাম। সেখানে রোজারিও শহরের টেলিফোন ডিরেক্টরি বা ফোনবুক খুলে ‘মেসি’ পদবীর পরিবারের নম্বর খুঁজতে শুরু করলাম। আমার হাতে তখন কোনো ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না।”

দাদি থেকে বাবা: অবশেষে যোগাযোগ

ফোনবুকে পাওয়া নম্বরগুলোতে একের পর এক ফোন করতে থাকেন সাউতো। ১. প্রথমে ফোন করেন মেসির দাদিকে। দাদি তাকে মেসির চাচার নম্বর দেন। ২. চাচার সাথে কথা বলে অবশেষে তিনি মেসির বাবা হোর্হে মেসির নম্বর পান, যিনি তখন স্পেনে ছিলেন।

মেসির দেশপ্রেম: “অবশেষে আপনারা ডাকলেন!”

সবচেয়ে আবেগের মুহূর্তটি ছিল যখন সাউতো মেসির বাবার সাথে কথা বলেন। তিনি যখন হোর্হে মেসিকে জানান যে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল লিওনেল মেসিকে চায়, তখন হোর্হে মেসির উত্তর ছিল স্বস্তির। তিনি বলেছিলেন:

“অবশেষে আপনারা ডাকলেন! আমার ছেলে তো আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্যই বসে আছে। সে স্পেনের হয়ে খেলতে চায় না।”

মেসির সামনে তখন স্পেনের হয়ে খেলার অবারিত সুযোগ। কিন্তু ওমার সাউতোর সেই একটি ফোনকল এবং উদ্যোগের কারণেই মেসি সিদ্ধান্ত নেন তিনি তার জন্মভূমির হয়েই খেলবেন। বাকিটা ইতিহাস। সেই ছোট্ট লিও আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সর্বকালের সেরা ফুটবলার।

মেসির আবেগঘন বিদায় বার্তা

ওমার সাউতোর মৃত্যুর খবর শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি ইন্টার মায়ামির মহাতারকা লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে সাউতোর সাথে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেন:

“ওমার, আপনি সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। আপনিই সেই মানুষ, যিনি প্রথম এএফএ-কে (AFA) আমার দিকে নজর দিতে পথ দেখিয়েছিলেন। একজন অসাধারণ মানুষ—যাকে ভুলে থাকা অসম্ভব, বিশেষ করে আমাদের মতো যারা জাতীয় দলে তার সান্নিধ্য পেয়েছি। আমরা আপনাকে কখনো ভুলব না। শান্তিতে থাকুন।”

এই বার্তাটি প্রমাণ করে, সাউতো শুধু একজন ম্যানেজার ছিলেন না, তিনি ছিলেন মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অভিভাবক।

imgi 1 Lionel Messi with Omar Souto 2025 11 123e12fc026fafb976c1d8a1f2698df4
লিওনেল মেসিকে স্পেনের হতে দেননি যিনি: ওমার সাউতোর বিদায় ও অজানা গল্প!

উত্তরাধিকার: খেলোয়াড়দের ‘দ্বিতীয় বাবা’

ওমার সাউতো শুধু মেসির জন্যই নয়, আর্জেন্টিনার কয়েক প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে ছিলেন ‘দ্বিতীয় বাবা’র মতো। ক্যাম্পের সময় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সমস্যা শোনা, তাদের আবদার মেটানো এবং মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা—সবই করতেন তিনি নিভৃতে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর যখন সবাই উল্লাসে মত্ত, তখন মেসি নিজে সাউতোকে ডেকে নিয়েছিলেন ট্রফিটি ছোঁয়ার জন্য। সাউতোর জন্য এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? তিনি তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পেরেছেন যে, যেই ছেলেটিকে তিনি ফোনবুক ঘেঁটে খুঁজে বের করেছিলেন, সেই ছেলেটিই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা করেছে।

JitaBet ,  JitaWin , এবং  JitaGo- তে আপনার বাজি ধরুন,   তারা সত্যিই ভালো সম্ভাবনা অফার করে, খেলুন এবং বড় জয়লাভ করুন!

উপসংহার:

ফুটবল ইতিহাসে গোলদাতা বা কোচদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। কিন্তু ওমার সাউতোর মতো নেপথ্যের নায়করা প্রায়ই আড়ালে থেকে যান। অথচ সাউতোর সেই প্রচেষ্টা না থাকলে আজ হয়তো মেসির গায়ে স্পেনের জার্সি থাকত, আর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ খরা হয়তো আজও কাটত না।

আর্জেন্টিনার ফুটবলে ওমার সাউতোর অবদান কোনো ট্রফি দিয়ে মাপা যাবে না। যতদিন আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি থাকবে, যতদিন মেসির নাম উচ্চারিত হবে, ততদিন ওমার সাউতোর নামও ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।

বিদায়, ওমার সাউতো। ফুটবলের এই জাদুকরী গল্পের জন্য পৃথিবী আপনাকে মনে রাখবে।

আরও বিস্তারিত আপডেট ও খবর জানতে ভিজিট করুন আমাদের নিউজ ওয়েবসাইট jitawins News


bn_BDবাংলা